
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ফুলপুরে যোগদান করেন আব্দুস সালাম। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তিনি একই কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। ফলে ফুলপুরবাসী একজন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম নেত্রকোনা থেকে কর্মস্থলে এসে সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন অফিস করেন। এমনকি অফিসে উপস্থিত থাকার দিনগুলোতেও কর্মঘণ্টায় তাঁকে নিয়মিত পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন একই স্টেশনে থাকার কারণে তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমনকি নিজ কক্ষের সামনে টানানো নেমপ্লেটেও তিনি ‘ভারপ্রাপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এক কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর অফিসের আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এখন পর্যন্ত আব্দুস সালাম কোনো ধরনের আসবাবপত্র ক্রয় বা মেরামত করেননি। অথচ এ খাতে নিয়মিত বিল উত্তোলন করেছেন। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে না গিয়েও একাধিকবার টিএ-ডিএ বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, এর আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী পদে দায়িত্ব পালনকালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছিল। পরে ৭৬ জন কর্মচারীর লিখিত অভিযোগের পর তাঁকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ঘরানার এই কর্মকর্তা দলীয় আশীর্বাদে উপর মহলকে ম্যানেজ করে আবারও নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় বদলি হন। পরে পূর্বধলা থেকে বদলি হয়ে ফুলপুরে যোগদান করেন।
বিশেষ সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালামের রুক্ষ ও কর্কশ আচরণের কারণে বিভিন্ন ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে সেবা প্রদানকারী ১০ জনের বেশি পরিবার কল্যাণ সহকারী স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। এতে বিভাগীয় সেবা কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ কর্মী নির্বাচনেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ এলাকায় অবস্থান করেন না—এমন একজনকে শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁর অনিয়ম ও অদক্ষতার কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি সেবা থেকেও ফুলপুরবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আল্লাহ এসব মিথ্যাচারের বিচার করবেন।’